আপনি চাইলে ওরা সুযোগ নেবে: বিপাশা বসু

১৪ বছর ধরে সেক্স সিম্বল-এর ট্যাগ বহন করতে কেমন লাগে? একা বলিউডে এসে নিজের জমি তৈরি করতে কী কী হারাতে হয়েছে তাঁকে? জানাচ্ছেন বার্থডে গার্ল বিপাশা বসু।

প্রশ্ন: আগামিকাল (৭ জানুয়ারি) আপনার জন্মদিন। দিনটা কীভাবে কাটাবেন? প্ল্যান কী?
বিপাশা: জন্মদিনটা আমার খুব পছন্দের। উপহার পেতেও আমার খুব ভালো লাগে। এবার আমি আমার ছবির ইউনিটের সঙ্গে কাটাবো। কারণ আমি 'অ্যালোন' ছবিটার প্রমোশনে ব্যস্ত।

প্রশ্ন: ৩৫-এর উল্টো পারে পৌঁছনোর জন্য বিশেষ বিশেষ ভাবনা?
বিপাশা: আমি মনে করি, কোনও নারী যদি ৩০-এর মধ্যে নিজের সেরা সময়টায় পৌঁছে যান, তাহলে তাঁকে সুন্দর দেখাতে বাধ্য। যদি আপনি নিদের বয়স বাড়াটাকে সুন্দর ভাবে দেখেন, জীবনটা উপভোগ করেন, তাহলে আপনি ক্রমশ সুন্দর হয়ে উঠবেন। আমি এমন একজন মানুষ যে নিজের জন্মদিনের একমাস আগে থেকে অপেক্ষা করে দিনটার জন্য। আমার মা তো দুঃখ করে, আমি এভাবে সর্বসমক্ষে নিজের বয়সের কথাটা খোলাখুলি বলি বলে। ওর মতে, ২৫-এর পর থেকে আর জন্মদিন সেলিব্রেট করা উচিত নয়। আমার তো মনে হয়, সেটা মোটেই ভালো কথা নয় (হাসতে হাসতে)।

প্রশ্ন: আপনি যেদিন থেকে এই ইন্ডাস্ট্রিতে এসেছেন, সেদিন থেকে আপনার নামের পাশে 'সেক্সি' বলে একটা ট্যাগ পড়ে গিয়েছে। প্রতিটা ছবিতেই ওই 'সেক্সি' ট্যাগটা আপনার সঙ্গেই থেকেছ। প্র্যতকে পরিচালক এটা ব্যবহার করেছেন। এটা কি আপনাকে বিরক্ত করে?
বিপাশা: আমার তো নিজেকে ভাগ্যবান বলেই মনে হয়। ব্যক্তিগতভাবে কোনও সেক্স অ্যাপিল না থাকা সত্ত্বেও সবাই আমাকে 'সেক্সি' বলে ভাবেন। আমি যে চরিত্রে অভিনয় করি, সেদিকে মন দিই। কাজে মননিবেশ করি। তারপরেও যদি আপনাদের আমাকে মনে আমি সেক্সি, তাহলে আমি সেক্সি। আমি এমন অনেক চরিত্রে অভিনয় করেছি, যেগুলো মোটেই গ্ল্যামারাশ নয়। 'আক্রোশ'-এও আমি গৃহবধূর চরিত্রে অভিনয় করেছিলাম। অনেকে বলেছিলেন, আমাকে 'সেক্সি হাউজওয়াইফ' দেখাচ্ছে। যেহেতু সবাই আমাকে ওই বিশেষ ট্যাগটা সব সময়ই দিয়ে থাকেন, তাই সেটা নিয়ে সন্দেহ রাখি না। সত্যি বলতে, ওই ট্যাগটা নিয়ে আমি খুশি। ১৪ বছর এই ইন্ডাস্ট্রিতে আছি। আর আমার কেরিয়ার ওই ট্যাগটাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়েছে।

প্রশ্ন: এবার একটু রূঢ় বিষয়ে আসা যাক। একটা মেয়ে, যার কোনও খুঁটি ধরা নেই, সে যখন যৌন আবেদন নিয়ে ইন্ডাস্ট্রিতে আসেন, কেউ কেউ কি তার ফায়দা তুলতে চায় না? বলিউডের মতো প্রায় পুরুষ-চালিত একটা ইন্ডাস্ট্রিতে কাজটা কঠিন নয় কি?
বিপাশা: এখানে সারভাইভ করা খুব কঠিন নয়। আপনাকে বুঝতে হবে, আপনি যখন 'ওদের' সুযোগ দেবেন, তখনই ওরা তার ফায়দা তুলবে। হঠকারিতা আপনাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে না। নিজের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে। নীতিতে দৃঢ় থাকতে হবে এবং নিজের প্রতি সম্মান যেন না হারায়। ১৬ বছর বয়সেই আমি বুঝে গিয়েছিলাম, 'হ্যাঁ' বলাটা সহজ, কিন্ত্ত 'না' বলাটা কঠিন। দৃঢ় একটা 'না' বলা উচিত, যাতে আপনি সম্মত নন। এই দর্শন থাকলে, জীবন অনেক সহজ হয়ে যায়। প্রত্যেকের জার্নিটা নিজস্ব। কাজ আর সম্মানের মধ্যে আমি সব সময়ই সম্মানটাকে বেশি গুরুত্ব দিই। কাজ হারাতে রাজি আছি, নিজের প্রতি সম্মান হারাতে নই। আমি নিজেকে সম্মান করি, আপনাকেও। আপনি তার ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করুন, আপনি আমার থেকে পাওয়া সম্মান হারাবেন, আমাকেও হারাবেন।

প্রশ্ন: এর আগে এটা বিষয় নিয়ে আপনি কথা বলেননি, জানি। সত্যিই কি দু'বছর আগে অভিনয় থেকে অবসর নেওয়ার কথা ভেবেছিলেন?
বিপাশা: আমি কেরিয়ারকে ততটা সিরিয়াসলি নিইনি। সব কিছু খারাপ হচ্ছিল। ২০১০-এ আমি কাজ ছেড়ে দিই। অভিনয়টা মাথা থেকে বের করে দিই। ২০১২-তে জীবনে অনেক কিছু ভুল করে ফেলি। অনেকগুলো সুযোগ হেলাফেলা করে হারাই। নিজেকে এখন ভাগ্যবান বলে মনে হয়, শেষ পর্যন্ত কেরিয়ারটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ সেটা টের পেয়েছি। এবং সেটে আবার ফিরে আসতে পেরেছি। কেউ যদি নতুন করে শুরু করতে চান, তিনি সে সুযোগ পান। কিন্তু যদি আপনি কাঁদতে কাঁদতে মারা যেতে চান, তাহলে কেউ আপনাকে বাঁচাতে পারবে না।

প্রশ্ন: আপনি কাঁদেন?
বিপাশা: প্রচুর। প্রচুর। আমি মীনা কুমারির মতো (হেসে ফেলে)।

প্রশ্ন: আপনি বিক্রম ফাদনিস-এর 'নিয়া' ছবিতে কাজ করছেন তো?
বিপাশা: 'নিয়া' একটা ফ্যামিলি ড্রামা। একটা পরিবারকে নিয়ে গল্পা। পাশাপাশি মিউজিক্যাল-ও। জীবনকে উপভোগ করা, তাকে সেলিব্রেট করার গল্প। গল্পটা আপনাকে শেখায়, জীবন কতটা গুরুত্বপূর্ণ আর কীভাবে তা কাটানো উচিত। হূদয় ছোঁয়া ছবি। গল্পটা শুনে সবাই কেঁদে ফেলেছেল।

প্রশ্ন: হরর ছবি তো এখন খুব একটা সফল হচ্ছে না। তাহলে আবার একটা হরর ছবিতে কেন?
বিপাশা: 'অ্যালোন' সফল। হরর ঘরানাকে এটা অনেক কিছু দিতে চলেছে। ট্রেলর থেকেই খুব ভালো রেসপন্স পাওয়া যাচ্ছে ছবিটা সম্পর্কে। আগামিদিনে প্রথম সারির বহু অভিনেতা-অভিনেত্রী ভয়ের ছবিতে অভিনয় করতে চলেছেন। প্রযুক্তিগতভাবে আমরা এগোচ্ছি। 'ক্রিচার'-এ এমন কতগুলো জিনিসের ব্যবহার হয়, যা ভারতীয় ছবিতে নতুন। যদি হর ছবিতে আমাদের এগোতে হয়, তাহলে ইন্ডাস্ট্রির উচিত, স্পেশাল এফেক্টে আরও অর্থ ব্যয় করা।

প্রশ্ন: কিন্তু 'অ্যালোন' তো একটা থাই ছবির রিমেক। আর দক্ষিণ ভারতীয় ছবি 'চারুলতা'রও খুব কাছাকাছি গল্প। প্লটটা তো বিশেষ পাল্টানো হয়নি, তাই না?
বিপাশা: আমরা বিশেষ পরিবর্তন করিনি। আমাদের পরিচালক খুব ভালো ভাবে গল্পটা অ্যাডপ্ট করেছেন। চারুলতা বা থাই ছবিটা (তার নামও 'অ্যালোন')-র থেকে এটা অনেক ভালো হতে চলেছে। ট্রেলর দেখেই বোঝা যাচ্ছে, আমাদের ছবিটা অনেক নির্মেদ হয়েছে। গানটার পরে দর্শক আমাকে আর করণ-কেও পছন্দ করছে। অল্পবয়সীদের খুবই ভালো লাগছে।

প্রশ্ন: করন সিং গ্রোভারকে নিজের হিরো হিসাবে বাছলেন কেন? তারপর থেকে শোনা যাচ্ছে, আপনারা নাকি পরস্পরেও বেশ ঘনিষ্ঠও হয়েছেন। করন তো একেবারেই নিউকামার, তাই নয় কি?
বিপাশা: যখন আমি গল্পটা পড়লাম, নিজের চরিত্রটা জানলাম, আমার মনে হয়েছিল, গল্পটা বেশ শক্তিশালী। দর্শককে আনন্দ দেবে, চিত্রনাট্যও আমার জন্য খুব চ্যালেঞ্জিং। আমি কুমারজি-কে অনুরোধ করলাম, এমন একজন হিরো খুঁজতে যাকে সিনেমায় আমার সঙ্গে ঠিক লাগে। উনি করনের কথা বললেন। করনও আমারই মতো। আমার রিহার্সাল করি না। মেথড অ্যাকটর-ও নই। আমরা একই ধরনের ফিল্ম স্কুলের। ছবিতে আমাদের আবেগঘন এবং অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বেশ কিছু দৃশ্য আছে। আবেগঘন মুহূর্তের ওই জার্ক সিন-গুলোর শ্যুটিং করাটা খুব কঠিন ছিল। এখন এইটুকুই বলব।

প্রশ্ন: এখন কী ভেবে ছবি নির্বাচন করেন?
বিপাশা: খোলাখুলি পুরোটা বুঝি। কাজ এবং দল, পুরো বিষয়টা নিয়েই কথা বলি। ওঁরাও আমার কথা শোনেন। প্রয়োজন মতো গ্রহণ করেন। আমি অভিনয়ের এমন একটা পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছি, যেখানে শুধুমাত্র সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা আমি কাজ করে দায়িত্ব শেষ করতে পারি না। প্রিপ্রোডাকশন, পোস্টপ্রোডাকশন, প্রমোশন- সবেতেই আমাকে যুক্ত থাকতে হয়।

প্রশ্ন: আমরা এমনটাও শুনেছি, আপনার সঙ্গে কাজ করাটা নাকি বেশ ঝামেলারও?
বিপাশা: আমি পেশাদার। যদি আপনি আমায় কোনও প্রমিস করেন, আমাকে সেটা দিতে হবে। কথার খেলাপ, আমার পছন্দ নয়। যদি আমি কাজ করি, আমি চাইব, বাকিরাও কাজ করুক। নিয়ম ভাঙাটাও আমার পছন্দ নয়। সময়ের অপচয় করাটাও আমার ভালো নাগে না। আপনি যদি চান, আমি সময়ে পৌঁছে কাজ করব, তাহলে আপনাকেও কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে। যদি সেটা না হয়, তাহলে সেটা আমার মনে থাকবে, আর পরে আপনি আমার থেকে কোনও সুবিধা পাবেন না। যদি সব ঠিকঠাক থাকে, তাহলে আমার চেয়ে ভালো কোনও কাজের মানুষ আপনি পাবেন না।

প্রশ্ন: দ্বিতীয় বার আপনি দ্বৈতচরিত্রে অভিনয় করছেন। প্রথম বার ছিল ধুম টু। এই ছবিতে আপনাকে শয়তানের ভূমিকায় অভিনয় করতে হবে আর দেখতে খারাপ লাগবে কিছু কিছু সময়...
বিপাশা: ভয় দেখানো কিন্ত্ত খুব কঠিন কাজ। আমি এর আগে শয়তানের চরিত্র কখনও করিনি। চিত্‍কার করা কিংবা সংলাপ বলার সময় আমি পরিচালকের সাহায্য নিয়েছি। খারাপ দেখানোর ব্যাপারটাও যে কোনও অভিনেত্রীর জন্য কঠিন। আমি নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। ছবিটা দেখলে হয়তো আপনাদের ভালো লাগবে।
  • 0Blogger Comment
  • Facebook Comment

Post a Comment