স্বামীরাই স্ত্রীদের মানসিক চাপের বড় কারণ!
ডা.
মোড়ল নজরুল ইসলাম : মানসিক চাপ বা স্ট্রেস নেই এমন নারী-পুরুষ খুবই কম
পাওয়া যাবে। আমাদের মত দেশে মানসিক চাপ নিয়ে কোন পরিসংখ্যান নেই। তবে
স্ট্রেস নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে একটা মজার গবেষণা করেছেন বিশেষজ্ঞগণ। আর এই
গবেষণায় দেখা গেছে গৃহকর্তা বা স্বামী যদি মানসিক চাপে ভোগেন তাহলে সেই
চাপ স্ত্রী ও সন্তানদের স্পর্শ করে। আর স্বামীদের কারণেই স্ত্রীদের মানসিক
চাপ পোহাতে হয় সবচেয়ে বেশী। যুক্তরাষ্ট্রের ৭ হাজার মায়ের ওপর জরিপ চালিয়ে
দেখা গেছে প্রতি ১০ জন মায়ের মধ্যে ৮ দশমিক ৫ জন মা কোন না কোন ধরনের
মানসিক চাপে আক্রান্ত। অর্থাত্ শতকরা হিসাবে ৮৫ ভাগ আমেরিকান মা মানসিক
চাপে ভুগে থাকেন। আর মায়েরা যা বলেছেন তা রীতিমত উদ্বেগজনক। তারা বলেছেন,
তাদের শতকরা ৪৬ ভাগ মানসিক চাপ স্বামীর কারণে, সন্তানদের জন্য নয়। তবে
মায়েদের মানসিক চাপের সবচেয়ে বড় কারণ হলো কর্মক্ষেত্রে কাজ শেষে বাড়ি ফিরে
যতটা সময় তারা পান তা সন্তানের লালন-পালন এবং পরিবার সামলানোর জন্য
যথেষ্ট নয়। ৪ ভাগের ৩ ভাগ মা উল্লেখ করেছেন তারা সন্তানের যত্ন ও স্বামী
সেবায় ব্যস্ত থাকেন এবং প্রতি ৫ জনের ১ জন মা উল্লেখ করেন তারা সন্তান ও
সংসার সামলাতে স্বামীর কোন সাহায্য-সহযোগিতা পান না। আর এটাই তাদের
মানসিক চাপের বড় কারণ। গবেষণায় বিশেষজ্ঞগণকে বলা হয়েছে, স্বামী-স্ত্রীর
সম্পর্ক রক্ষা করা বেশ কঠিন এবং বিবাহ নামক বিষয়টি যথেষ্ট স্ট্রেসফুল, সেটা
যদি সুবিবাহও হয়ে থাকে। গবেষকদের একজন মা বলেছেন, তিনি শারীরিক ও
মানসিকভাবে অস্বস্তিতে ভোগেন যখন তার স্বামী বাড়ি ফেরেন। কারণ তার স্বামী
বাসায় ফিরে মনে করে সে যেন আর একটা অফিসে এসেছে। একজন মা উল্লেখ করেছেন
তিনি এবং তার স্বামী চাকরি ক্ষেত্রে একই রকম সময় দেন এবং একই ধরনের কাজ
করেন। অথচ সংসার সামলাতে স্ত্রীকে সবকিছু সামলাতে হয়। আর কোন ভুল হলে এর
সবটার দায়-দায়িত্ব নিতে হয় স্ত্রীকে। তবে অনেকে বলেছেন, তাদের স্বামী
সত্যিকার অর্থে একজন মহান পিতা, তবে বিবাহ স্ট্রেসফুল। তবে গবেষণায় অনেকেই
তাদের স্বামীদের প্রশংসা করেছেন এবং অনেক মাই বলেছেন, বাড়ন্ত সন্তানদের
অমনযোগ, অবাধ্যতাও তাদের অনেক সময় প্রবল মানসিক চাপের মধ্যে ফেলে।

Post a Comment