নিজেকে হাইক্লাস কলগার্ল অস্বীকার করেছে প্রিয়াংকা জামান

অবশেষে পুলিশের রিমান্ডে আলোচিত প্রিয়াংকা জামান নিজেকে হাইক্লাস কলগার্ল ও গ্রেপ্তারকৃতদের গার্লফ্রেন্ড হিসেবে উল্লেখ করলেও লিবিয়ায় লোক পাঠানোর সঙ্গে নিজের সংশ্লিষ্টতার কথা অস্বীকার করেছে।বাংলাদেশী মডেল কন্যা প্রিয়াংকা জামানসহ ৩ লিবীয় নাগরিক প্রথম দফা রিমান্ডে গোয়েন্দা পুলিশকে জানিয়েছে,লিবিয়ায় লোক পাঠানোর নামে ৩০টিরও অধিক দেশীয় রিক্রুটিং এজেন্সি প্রতারণায় লিপ্ত।এ প্রতারণার সঙ্গে  লিবীয় দূতাবাসের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা জড়িত।অসুস্থ অবস্থায় বুধবার যে লিবীয় নাগরিককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল তার অবস্থা এখন ভাল। বুধবার বিকালেই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়েছে।গতকাল  আবার ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে প্রিয়াংকাসহ ৩ লিবীয় নাগরিককে আদালতে হাজির করা হয়।শুনানির জন্য আদালত ৪ঠা নভেম্বর তারিখ ধার্য্য করেছে।


উল্লেখ্য,মানি লন্ডারিং ও লিবিয়ায় লোক পাঠানোর নামে প্রতারণার অভিযোগে গত ২৩শে অক্টোবর গভীর রাতে প্রিয়াংকাসহ ৩ লিবীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃকদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ পাসপোর্ট ও দেশী-বিদেশী মুদ্রা উদ্ধার করা হয়।রিমান্ডে থাকা অবস্থায় লিবীয় নাগরিকদের কাছ থেকে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য , তারা জানায় বাংলাদেশী এক শ্রেণীর দালালের মাধ্যমে রিক্রুটিং এজেন্সির সঙ্গে তারা যোগাযোগ করে অবৈধ ভাবে লিবিয়ায় শ্রমিক পাঠায়। বৈধতা না থাকায় অনেকে সেখানে নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হন। মহিলাদের ওপর চালানো হয় যৌন নির্যাতন। নানা ধরনের দুঃখ-দুর্দশা ভোগের পর অনেকে দেশে ফিরে আসেন। এরই মধ্যে লোক পাঠানোর নামে প্রতারণার মাধ্যমে যে টাকা হাতিয়ে নেয়া হয় তা ৩-৪টি পর্যায়ে ভাগ-বাটোয়ারা হয়।
গোয়েন্দা সূত্র থেকে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে  উদ্ধার হওয়া পাসপোর্টের  প্রকৃত মালিকদের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। তাদের পাওয়া গেলে প্রতারণার কৌশল সম্পর্কে অধিকতর তথ্য পাওয়া যাবে।
গোয়েন্দা পুলিশের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত লিবিয়ার নাগরিক সামির আহমেদ ওমর ফার্দ, আমারা মাহমুদ আমারা এবং মোবারক ফার্দ সেলিম  গ্রেপ্তারের ১ সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এ পর্যন্ত তারা বাংলাদেশে অবস্থানের ব্যাপারে কোন বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। ইমিগ্রেশন দুর্বলতা নাকি এসবি’র দুর্বলতার সুযোগে তারা অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি জানান, রিমান্ডে আনার পর প্রথম দিকে তারা জোর গলায় বলেছে- তারা কারও সঙ্গে প্রতারণা করছে না। বৈধভাবেই এ দেশ থেকে জনশক্তি রপ্তানি করছে। এ বিষয়ে তাদের কাছে বাংলাদেশ ও লিবিয়া সরকারের অনুমতিপত্র চাইলে তারা তা দেখাতে পারেনি।
  • 0Blogger Comment
  • Facebook Comment

Post a Comment